আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠকেরা, আশা আপনারা সবাই মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবাণীতে ভালো আছেন । আজ আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো "ফিতরা কি টাকা দিয়ে আদায় হবে ২০২৬? ফিতরা কী দিয়ে আদায় করতে হবে" তা নিয়ে ।
রমজান মাসের শেষভাগে মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা। প্রতি বছরই একটি সাধারণ প্রশ্ন উঠে আসে ফিতরা কি টাকা দিয়ে আদায় করা যাবে? ২০২৬ সালের জন্য এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানা অত্যন্ত জরুরি।
ফিতরা (সদকাতুল ফিতর) কী?
ফিতরা হলো ঈদুল ফিতরের আগে আদায়যোগ্য একটি ওয়াজিব সদকা, যার মাধ্যমে রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিশুদ্ধ হয় এবং দরিদ্র মুসলমানরা ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে।
ফিতরা কী দিয়ে আদায় করতে হবে?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় চলতি বছরের ফিতরার হার ঘোষণা করেছে।
| বিষয় | বিবরণ |
| সর্বনিম্ন ফিতরা | ১১০ টাকা (গম বা আটার ভিত্তিতে) |
| সর্বোচ্চ ফিতরা | ২,৮০৫ টাকা (পনিরের ভিত্তিতে) |
| আদায়যোগ্য পণ্যসমূহ | আটা, যব, কিশমিশ, খেজুর ও পনির |
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী ৫টি পণ্য দিয়ে ফিতরা আদায়ের বিধান রয়েছে। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী নিচের যেকোনো একটির মূল্য ধরে ফিতরা দিতে পারেন:
- আটা (অর্ধ সা'): ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ১১০ টাকা।
- যব (এক সা'): ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ৫৯৫ টাকা।
- খেজুর (এক সা'): ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ২,৪৭৫ টাকা।
- কিশমিশ (এক সা'): ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ২,৬৪০ টাকা।
- পনির (এক সা'): ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজারমূল্য ২,৮০৫ টাকা।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ যারা উচ্চবিত্ত, তাদের জন্য আটার সর্বনিম্ন হিসাব (১১০ টাকা) না দিয়ে খেজুর বা পনিরের হিসাব অনুযায়ী ফিতরা দেওয়া উত্তম। এতে গরিব মানুষেরা বেশি উপকৃত হয়।
ফিতরা কি টাকা দিয়ে আদায় হবে ২০২৬ সালে?
হ্যাঁ, টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এবং হানাফী মাযহাব অনুযায়ী, পণ্যের পরিবর্তে তার বাজারমূল্য বা নগদ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা বৈধ এবং বর্তমান সময়ে এটিই বেশি সুবিধাজনক।
কেন টাকা দিয়ে আদায় করা উত্তম?
অধিকাংশ আলেম মনে করেন, বর্তমান সময়ে অভাবী মানুষের চাল বা আটার চেয়ে নগদের প্রয়োজন বেশি থাকে। টাকা পেলে তারা নিজের প্রয়োজনমতো কাপড়, ওষুধ বা ঈদের অন্য কোনো সামগ্রী কিনতে পারেন। তবে কেউ চাইলে সরাসরি খাদ্যদ্রব্য (যেমন: ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম আটা বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম খেজুর) দিয়েও ফিতরা দিতে পারেন।
ফিতরা কখন ও কাকে দিতে হবে?
ফিতরা আদায়ের সর্বোত্তম সময় হলো ঈদের নামাজের আগে। এটি দরিদ্র ও যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত মুসলমানদের দেওয়া যাবে।
ফিতরা সম্পর্কে কিছু জরুরি মাসয়ালা
কার ওপর ওয়াজিবঃ ঈদুল ফিতরের দিন সকালে যার কাছে যাকাতের নিসাব পরিমাণ (সড়ে ৫২ তোলা রুপার সমমূল্য) সম্পদ থাকে, তার ওপর ফিতরা ওয়াজিব।
কখন দিতে হবেঃ ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করা সুন্নাত। তবে রমজানের যেকোনো সময় এটি দেওয়া যায়।
কাকে দেবেনঃ আপনার আশেপাশে থাকা অভাবী, দুস্থ এবং নিঃস্ব মানুষকে ফিতরা দিতে হবে। নিজের নিকটাত্মীয় যদি অভাবী হয়, তবে তারা আগে পাওয়ার হকদার।
২০২৬ সালে ফিতরা খাদ্যদ্রব্য বা তার সমমূল্যের টাকা দিয়ে আদায় করা যাবে। সঠিক নিয়ত, সময় ও উপযুক্ত প্রাপক নিশ্চিত করলেই ফিতরা সহিহভাবে আদায় হবে।
